গ্র্যাণ্ড ডিজাইন : একটি রিভিউ

লেখাটির জন্য একটি গৌরচন্দ্রিকা দরকার। দুনিয়ার তাবৎ বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরাই যেখানে হকিং এর তত্ত্ব নিয়ে হিমসিম খান, তার বইয়ের রিভিউ লেখার দুঃসাহস করেন না খুব একটা, সেখানে আমার মতো একজন ছা-পোষা লেখকের গ্র্যাণ্ড ডিজাইন বইটির রিভিউ করা দুঃসাহসিক মনে হতে পারে। আমি নিজে কোন পদার্থবিজ্ঞানী নই। তবে, কোয়ান্টাম বলবিদ্যা সহ আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ধ্যান ধারনাগুলোর সাথে [...]

মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে পৌঁছে…

গত সপ্তাহের সংবাদ অনুযায়ী জ্যোতির্বিদরা পর্যবেক্ষিত বা অবলোকিত গ্যালাক্সীদের মধ্যে সবচেয়ে দূরতম গ্যালাক্সীটি খুঁজে পেয়েছেন। এই গ্যালাক্সীটি আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদি মূহুর্ত বিগ ব্যাংএর মাত্র ৬০০ মিলিয়ন (৬০ কোটি) বছরের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল। বিগ ব্যাংএ সৃষ্ট হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস থেকে ক্রমঃশীতল মহাবিশ্বের প্রথম নক্ষত্ররা হয়তো এই গ্যালাক্সীর অধিবাসী। এই গ্যালাক্সী থেকে যে আলো আমরা [...]

‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’ – স্টিফেন হকিং [অধ্যায় ৪] (অনুবাদ)

৪ বিকল্প ইতিহাস ১৯৯৯ সালে অস্ট্রিয়ার একদল পদার্থবিজ্ঞানী ফুটবল আকৃতির কিছু অণুকে দেয়ালের দিকে ছুঁড়ে একটি পরীক্ষা করেন। ষাটটি কার্বন পরমাণু দিয়ে তৈরি এই অণুগুলোকে প্রায়ই বাকিবল নামে ডাকা হয়, কারণ স্থপতি বাকমিন্সটার ফুলার এই আকৃতির ভবন নির্মাণ করতেন। ধারণা করা হয় ফুলারের ভূ-আকৃতির গম্বুজগুলোই পৃথিবীর বুকে ফুটবল আকৃতির বৃহত্তম বস্তু। আর বাকিবলরা হচ্ছে ক্ষুদ্রতম। [...]

‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’ – স্টিফেন হকিং [অধ্যায় ৩] (অনুবাদ)

ক’বছর আগে ইটালির মনজা নগরীর নগর পরিষদ গোলাকার পাত্রে গোল্ডফিশ রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো। এই সিদ্ধান্তের সমর্থকদের একটা যুক্তি ছিলো, এধরনের বক্রতলওয়ালা পাত্রে গোল্ডফিশ রাখাটা নিষ্ঠুরতা, কারণ এতে গোল্ডফিশটা বাইরে তাকিয়ে বাস্তবতার একটা বিকৃতরূপ দেখে। কিন্তু আমরা নিজেরাই বাস্তবতার যে চিত্র দেখি সেটাই বা কতটা সত্য? কিভাবে জানবো যে সেটাও বিকৃত নয়? এমন কি হতে পারে না, যে আমরাও একটা বৃহৎ গোল্ডফিশের পাত্রে আছি এবং আমাদের দৃষ্টিও একটা বিশালাকার লেন্সের কারণে বিকৃত হচ্ছে? গোল্ডফিশটির বাস্তবতার চিত্রটা হয়তো আমাদের থেকে আলাদা, কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত হতে পারি যে সেটা আমাদের চাইতে কম বাস্তব? [...]

‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’ – স্টিফেন হকিং [অধ্যায় ২] (অনুবাদ)

২ বিধিসূত্র Skoll the wolf who shall scare the Moon Till he flies to the Wood-of-Woe: Hati the wolf, Hridvitnir’s kin, Who shall pursue the sun. -“GRIMNISMAL,” The Elder Edda ভাইকিং পুরাণে আছে, স্কল এবং হাটি সূর্য এবং চন্দ্রকে তাড়া করে বেড়ায়। এরা যখন কোনো একটাকে ধরে ফেলে তখনই সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয়। আর তখন [...]

‘দ্য গ্রান্ড ডিজাইন’ – স্টিফেন হকিং [অধ্যায় ১] (অনুবাদ)

১ অস্তিত্বের রহস্য আমাদের প্রত্যেকের অস্তিত্বই খুবই কম সময়ের জন্য। আর এই ক্ষণিকের অস্তিত্বে এই মহাবিশ্বের খুব কম অংশই আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব। কিন্তু মানুষ খুবই কৌতুহলী প্রজাতি। সে জানতে চায়, উত্তর খোঁজে। এই কোমল-কঠোর পৃথিবীর বুকে জন্ম গ্রহন করে উপরের সুবিশাল মহাকাশ আর নক্ষত্রপুঞ্জ দেখে যুগে যুগে আমাদের মত মানুষ হাজারো প্রশ্ন করে গেছে: [...]

স্টিফেন হকিং-এর ঈশ্বরবিহীন মহাবিশ্ব!

স্টিফেন হকিং খুব সাহসী একটা কাজ করে ফেলেছেন – যেটা তার স্বভাবের সাথে একদমই যায় না। তিনি সরাসরি বলেছেন – মহাবিশ্ব ‘সৃষ্টি’র পেছনে ঈশ্বরের কোন ভূমিকা নেই। মহাবিশ্ব পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম নীতি অনুসরণ করে স্বতস্ফুর্তভাবে তৈরি হয়েছে। মহাবিশ্বের উৎপত্তি এবং অস্তিত্বের ব্যাখ্যায় ঈশ্বরের আমদানি একেবারেই অযথা। সাহসী কাজটা করলেন বটে – কিন্তু ব্যাপারটি তার স্বভাববিরুদ্ধ, প্রথমেই [...]

শূন্য (শেষ পর্ব)

পূর্ববর্তী পর্বের পর... বিশ কুয়ান্টাম তত্ব এক অভিনব সংযোজন আধুনিক বিজ্ঞানে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় অনেক জটিল সমস্যার সহজ সমাধান দিয়ে ফেলছে, অথচ ভাবতে গেলে মাথা ঘুরে যায়। ধাঁধার ঘোর যেন কিছুতেই কাটতে চায় না। এ আবার কেমনতরো কথা যে বস্তুজগতের ছোটবড় সব জিনিসই আণবিক দৃষ্টিতে একই সাথে ভরযুক্ত কণা, এবং ভরমুক্ত তরঙ্গ? কণা নয তরঙ্গ [...]

আইনস্টাইনের ভুবন

আইনস্টাইনের ভুবন ১ ১৮ এপ্রিল আলবার্ট আইনস্টাইনের মৃত্যুদিন। ১৯৫৫ সালের এ দিনে ৭৬ বছর বয়সে আলবার্ট আইনস্টাইন মারা যান। ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ থেকে ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল। ছিয়াত্তর বছর এক মাস চারদিনের বায়োলজিক্যাল লাইফ আইনস্টাইনের। কিন্তু কিছু কিছু জীবন থাকে - শারীরিক মৃত্যুতে শেষ হয় না, যার কীর্তি থেকে যায় অনন্তকাল। আইনস্টাইনের জীবন ঠিক [...]

নির্ধর্মকথা- এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি (১/৩)

প্যালের ঘড়ি এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল কিংবা মিঠা নদীর পানিতে নাম জানা হরেক রকমের মাছ- সবকিছু কী নিখুঁত চমৎকারিত্বপূর্ণ। এতো সুন্দর, এতো জটিল প্রাণীজগতের দিকে তাকালে বোঝা যায় এগুলো এমনি এমনি আসেনি- এদের এভাবেই তৈরী করা হয়েছে। ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষে সন্দেহাতিতভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত যুক্তি এটাই। বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করা হলেও যুক্তির [...]

Go to Top