ম্রো'দের বাঁশির নাম প্লুং। একই বাঁশি থেকে একাধিক সুরশব্দ এদেশে একমাত্র এই বাঁশিতেই তৈরি হয়।

পাহাড়ের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ শিকারি ভাষাগত সংখ্যালঘু ম্রো জনজাতি। ম্রো’দের অধিকাংশই পেশায় জুমচাষি (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরনের চাষাবাদ)। তাদের অধিকাংশের বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে।

ম্রো শিশু-১


তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা, ধর্ম, কৃষ্টি, রীতিনীতি, আচার, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। অন্য আরো পাহাড়িদের মতো তারাও সহজ-সরল, সাধারণ জীবন-যাপনে অভ্যস্থ।

ম্রো শিশু-২


তবে সুউচ্চ চিম্বুক পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার ম্রো’দের এখন বড়োই দুর্দিন। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমাগত উচ্ছেদের ফলে সুয়ালক, টংকাবতী ও কালেঙ্গা এলাকার শত শত ম্রো আদিবাসী পরিবার এখন উদ্বাস্তুর মাববেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

ম্রো নারী-১

ভূমিহীন ও প্রান্তিক জুম চাষি এসব আদিবাসী নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হয়ে চিম্বুক সড়কের দুপাশে অস্থায়ী ঘর তুলে কোনোরকমে জীবনযাপন করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তাদের পুনর্বাসন করা হয়নি।

ম্রো নারী-২


উপরন্তু নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উচ্ছেদের কথা স্বীকার করতেও রাজী নয়। তাদের ভাষ্যমতে, সেনা দুর্গ সম্প্রসারণের জন্য চিম্বুকে বৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও দেওয়া হয়েছে।

ম্রো নারী-৩


এ সব বিষয়ে বছরখানেক আগে চিম্বুক পাহাড়ে ঘুরে তৈরি করা হয় একটি সরেজমিন প্রতিবেদন। সে সময় একাধিক ম্রো নারী-পরুষ জানান তাদের বিপন্ন জনজীবনের ইতিকথা। মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তাৎক্ষণিকভাবে তোলা হয় এসব আলোকচিত্র।

ম্রো নারী-৪


একই সময় চিম্বুক পাহাড়ের পাবলা হেডম্যান পাড়ায় উচ্ছেদকৃত ম্রো আদিবাসীরা এক সমাবেশের আয়োজন করেন। এতে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা অভিযোগ করে বলেন, নব্বইয়ের দশকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালকে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে সাড়ে ১১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে ছয় হাজার ম্রো আদিবাসী এবং স্থায়ী বাঙালি বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়। ওই সব আদিবাসী ও বাঙালি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমা বলেন, উচ্ছেদ হতে হতে আদিবাসীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

ছবি: ইউকিপিডিয়া, লেখক