যুক্তরাষ্ট্রের বুশ সরকার ক্যানাডার ওপর বড়ই রুষ্ট। নানা কারণে। সব কারণের বড় কারণ হল, ইরাকের হামলায় যোগ দেয়নি। সম্প্রতি মিসাইল ডিফেন্স প্রকল্পে যোগ না দেওয়াতে সারা ওয়াশিংটন রেগে আগুন। বুশ সাহেব মনে মনে ফুঁসছেন। কন্ডিবিবি ভীষণ গোসা, ক্যানাডাসফর বাতেল করেছেন। তদুপরি, গাঁজাসেবন বৈধ করার আয়োজন চলছে। আরো বিরক্তির কারণ ঘটিয়েছে সমলিঙ্গের বিয়ের ব্যাপারটা। বুশ এবং তাঁর চেলাপেলারা যেখানে শ্বেতভবনকে বাইবেলপাঠের মক্তব বানানোর উপক্রম সেখানে পল মার্টিনের মত একটি বেতমিজ লোক পার্লামেন্টের আইন দিয়ে চালু করতে চাইছে এক লিঙ্গের বিবাহ। ঔদ্ধত্য কাকে বলে! যুক্ত্ররাষ্ট্রের নিকটতম প্রতিবেশী হয়ে থাকাটাই ভাগ্য, সেখানে অবাধ্য, অকৃতজ্ঞ বালকের মত ব্যবহার ওয়াশিংটন সহ্য করবে কেন।

 

 সমলিঙ্গের বিবাহ আর ঐচ্ছিক গর্ভপাত, দুটোই বড় স্পর্শকাতর বিষয়। ব্যক্তিমানুষ ও সমাজমানুষের ইহজাগতিক ও পরজাগতিক বোধগুলো এ দুটি জায়গাতে এসে ভীষন ধাক্কা খায়। গর্ভপাতের প্রশ্নে নারীবাদী ও ভ্রুণবাদীদের দ্বন্দ্ব তো যুগ যুগ ধরে চলছে- এর মীমাংসা কোনদিন হবে বলে মনে হয়না। স্বৈরতান্ত্রিক ধর্মীয় রাষ্ট্রগুলোর কথা বলছিনা আমি, বলছি পশ্চিম বিশ্বেরই কথা যেখানে ধর্মালয়ে রাষ্ট্রের স্থান নেই, রাষ্ট্রালয়ে নেই ধর্মের। অথচ এখানেও, আগাগোড়া উদারপন্থী ধর্মনিরপেক্ষ মানুষও যেন এ দুটি প্রশ্নে এসে কেমন থতমত খেয়ে যায়–কোনদিকে যাবে সে। সবচেয়ে অস্বস্তিকর হল সমলিঙ্গের প্রসঙ্গটা। ছেলে-ছেলে আর মেয়ে-মেয়েতে বিয়ে হয় কি করে? ছি, ভাবতেই তো ঘিন লাগে। ছেলে-ছেলে নাহয় মানা যায়, যন্ত্রপাতি তাদের আছে মোটামুটি, কিন্তু মেয়ে-মেয়ের কারবারটা ঘটে কেমন করে। মুসলমানদের জন্য এ হল কবিরা গুনাহ, আল্লাতালা হয়ত দোযখের সবচেয়ে গরম কামরাটাই রেখে দিয়েছেন ওদের জন্য। খ্রীষ্টানদেরও একই খবর–বাইবেলে পরিস্কার লেখা আছে, বড় বড় অক্ষরে, পাপ, মহাপাপ। ক্যানাডা-আমেরিকার এংলিকান চার্চ যে কোন্‌ বুদ্ধিতে সমকামীদের বিয়ে করাতে রাজী হয়ে গেল তা কিছুতেই আমার মাথায় ঢোকে না। ক্যাথলিক চার্চ অবশ্য তাদের সনাতন আদর্শে অটল–মানা মানে মানা। বাইবেল বলেছে পাপ, সুতরাং পাপ, এবং যে পাপ করে বা পাপকে প্রশ্রয় দেয় সেও পাপী। ক্যানাডার ক্যাথলিক চার্চ ইদানিং প্রধানমন্ত্রী পল মার্টিনকে মুর্তাদ ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। অবশ্য মুর্তাদশব্দটার স্বত্বাধিকার কেবল মুসলমান মৌলভিদেরই। তবে ক্যাথলিকদের এক্সকমুনিকেটার এর অর্থও তো বলতে গেলে একই। তফাত এই যে মুসলমান মুরতাদদের গর্দান যাওয়ার বিস্তর সম্ভাবনা, ক্যাথলিক মুর্তাদদের সে ভয়টা নেই।

 

  প্রকাশ্য আলোচনায় সমলিঙ্গের বিষয়টা খানিক ন্যক্কারজনক তাতে সন্দেহ নেই। অনেক রুচিসম্পন্ন ব্যক্তির মনেই এতে বিবমিষার ভাব সৃষ্টি হয়। প্রাচ্য সংস্কৃতিতে সাধারণত নারীপুরুষের সমাবেশে সমলিঙ্গের প্রসঙ্গ তোলা হয় না, ওটা যৌনতার চেয়েও লজ্জাকর বস্তু, ওটা চিলেকোঠায় লুকিয়ে রাখার জিনিস, ভদ্রসমাজে উচ্চারণের যোগ্য নয়। অথচ ভেবে দেখুন একবার, বিষয়টি কিন্তু নতুন নয়, সৃষ্টির আদি থেকেই এর অস্তিত্ব। পাপ যদি হয়েও থাকে তাহলে মানুষের আদিমতম পাপেরই অন্যতম এই সমলিঙ্গের সর্ম্পক। অন্তত তোরা-বাইবেলের যুগে সমকামী মানুষ যে সমাজে প্রচুর ছিল তার প্রমাণ তো বাইবেলেই –নইলে এত জোর দিয়ে একে পাপ বলা হবে কেন। সেযুগে মানুষের জ্ঞান ছিল খুবই সীমিত, বিজ্ঞান তো সদ্যজাত শিশুমাত্র, সুতরাং সমাজ জীবনের অগ্রগতির প্রধান সহায়ক ছিল মহাপুরুষদের মুখে শোনা দৈববানী। প্রশ্ন নয়, সংশয় নয়, তদন্ত নয়, শুধু অটল, অনড়, অন্ধ বিশ্বাস। ঈশ্বর বলেছেন পাপ, সুতরাং পাপ। সেটা যে বিশ্বাস করতে চায় না সে দ্বিগুন পাপী। এভাবেই যুগ যুগ ধরে বলবত্‌ থেকেছে বিশ্বাসের বজ্রমুষ্টি। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা মানুষকে নিয়ে গেছে এক দিগন্ত থেকে আরেক দিগন্তে, জ্ঞান ছুটছে সর্বজ্ঞানের সন্ধানে আকাশ থেকে মহাকাশে। কিন্তু সনাতন বিশ্বাসের সঙ্গে নবার্জিত জ্ঞানের সমন্বয় কি ঘটেছে সব সময়? ঘটেনি, এবং হয়ত ঘটবেওনা কোনদিন। একদিকে বিশ্বাস খুঁজবে তার নিরাপদ অন্ধকারের আশ্রয়কে, অপরদিকে বিজ্ঞান তাকে ভাসিয়ে,নেবে এক অজানা থেকে আরেক অজানায়। আজকে প্রতিটি আধুনিক মানুষের হাতে তারশুন্য দূরালাপনের যন্ত্র, তাত্‌ক্ষণিক আলোকচিত্র প্রস্তুতের জন্যে রয়েছে ডিজিট্যাল ক্যামেরা, দূরের মানুষের সঙ্গে স্থাপিত হয়েছে প্রাত্যহিক যোগাযোগ, বিশ্বের সমস্ত জ্ঞান তথ্য সংবাদ আবালবৃধ্ববনিতার আঙ্গুলের ছোঁয়াতে এনে দিয়েছে আন্তর্জাল। কিন্তু পুরাতন বিশ্বাসের ভিত্তি এখনো অনড়। আধুনিক বিজ্ঞান সমলিঙ্গের অনেক রহস্যেরই মুখোশ খুলে দিয়েছে, অনেক অজানা তথ্যই আজকে জ্ঞানের আঙ্গিনায় চলে এসেছে, তবুও মানুষের দ্বিধার শেষ নেই, দ্বন্দ্বের শেষ নেই। তবুও মানুষ জানতে রাজী নয়, শুনতে রাজী নয় বিজ্ঞান কি বলতে চায় সমলিঙ্গ সম্বন্ধে।

 

  আমি নিজেকে পূর্ণ সংস্কারমুক্ত বিদগ্ধ মানুষ বলে ভাবতে ভালবাসি। কিন্তু আমি জানি যে অতখানি উচ্চতায় আরোহণ করবার মত চারিত্রিক ও চিত্তশক্তি আমি এখনো অর্জন করতে পারিনি। সমকামী মানুষদের প্রতি আমার এখনো একটা ছুঁতমার্গীয় প্রবণতা আছে। শাস্ত্রমত পাপ হোক বা না হোক সমকাম এখনো আমার রুচিতে বাধে। এককালে আমি ভাবতাম সমকামী মানুষ নিশ্চয়ই বিকারগ্রস্ত মানুষ–রুচি এবং চরিত্রের বিপুল বিকৃতি না ঘটলে মানুষ এতে আকৃষ্ট হতে পারেনা। অর্থাত আমার চিন্তাধারা আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা ছিল না। তারপর একটু লেখাপড়া শিখে জ্ঞানবুদ্ধি হবার পর খানিক উদারতা এল মনে–মেনে নিলাম যে এটা হয়ত মনের বিকার নয়, কেবলি অসুস্থতা। হয়ত এর সঙ্গে চরিত্রের কোন সম্পর্কই নেই, শুধু মানসিক ভারসাম্যের স্খলন থেকেই এর উত্‌পত্তি। কিন্তু তখন নাতুন প্রশ্ন দাঁড়িয়ে যায়। অসুস্থতাই যদি হয় তাহলে তার চিকিত্‌সা থাকতে হবে। চিকিত্‌সা যদি আবিস্কার না হয়ে থাকে তাহলে কেও না কেও তার গবেষণা চালিইয়ে যাচ্ছে নিশ্চয়ই। কিন্তু সে খবরও তো পাওয়া যাচ্ছেনা কারও কাছ থেকে। তাহলে? তাহলে কি বাইবেলের কথাই ঠিক? পাপ? চরিত্রের পতন?

 

  আমাদের দেশের অনেকের ধারণা, সমকাম সমস্যাটি প্রধানত পাশ্চিমের সমস্যা। পাশ্চিমের মুক্ত সমাজ, অবাধ যৌন স্বাধীনতা, চরম স্বেচ্ছাচারিতা, এসবের কারণেই নানা যৌনবিকৃতির উদ্ভব যার অন্যতম হল সমকাম। এটা ঠিক যে আমাদের সমাজ মুক্ত নয়, শুধু যৌন নয় আরো অনেকরকম স্বাধীনতারই অভাব সেখানে, এবং স্বেচ্ছাচারিতা কেবল রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষেই সম্ভব, কিন্তু আমি মানতে রাজী নই যে তার ফলে সেখানে কোন যৌনবিকৃতি নেই। বরং আমি বিশ্বাস করি যে বিধিনিষেধ যত বাড়ে বিকৃতির সম্ভাবনাও বাড়ে ঠিক ততখানি। সমকামের সমস্যা আমাদের দেশে পশ্চিমের তুলনায় কম তো নয়ই, বরং জরিপ করলে হয়ত দেখা যাবে খানিক বেশি। আমার নিজের বাল্যজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তার কিঞ্চিত্‌ আভাষ পাওয়া যায়। ছোটবেলায়, দশ-এগারো বছর বয়ষে আমি বেশ কয়েকবার সমকামী শিকারিদের কবলে পড়েছিলাম। তার মধ্যে দুজন ছিলেন মসজিদের ইমাম। আমাদের গ্রামের সমবয়ষী বন্ধুরা আমাকে সাবধান করে দিত যাতে আলেম-ফাজেল মাদ্রাসার ধারেকাছে না যাই। এটা মসজিদের দোষ নয়, মাদ্রাসারও দোষ নয়, দোষ সেই ক্ষুধিত যুবকগুলোর–এর মূলে হল জৈবপ্রকৃতির সঙ্গে সমাজব্যবস্থার মৌলিক বিরোধ। ক্যানাডা-আমেরিকার ক্যাথলিক ছাত্রাবাসগুলুতে হালে যে ব্যাপক কেলেংকারির কাহিনী রাষ্ট্র হল চারদিকে তার মূলেও সেই একই বাস্তবতা–প্রকৃতিকে অমান্য করতে চেষ্টা করলে প্রকৃতি তার প্রতিশোধ নেবেই। না, সমকাম পশ্চিমের সমস্যা নয়, পূবেরও নয়, এটা মানবসমস্যা। প্রশ্ন হলঃ এটা কি সমস্যা, না, সহজাত স্বভাব? বিকৃতি না প্রকৃতি? এর জবাব খুঁজতে হলে ধর্মগ্রন্থে নয়, বিজ্ঞানে যেতে হবে।

  যেহেতু মানুষ জীবজগতেরই সদস্য (সবচেয়ে উন্নত সদস্য তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু মূলত মানুষ একটি জীব), তাই মানুষের জৈবপ্রকৃতির রহস্য খুঁজতে সমগ্র জীবজগতের দ্বারস্থ হওয়া মোটেও অযৌক্তিক হবে না। অন্তত সেটাই হবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। ১৮৫৯ খৃষ্টাব্দে ডক্টর আলেকজাণ্ডার লাবুবিন নামক এক যশস্বী প্রবীন বিজ্ঞানী ফ্রান্সের পতঙ্গবিজ্ঞান সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনের বক্তৃতামঞ্চে দাঁড়িয়ে পতঙ্গজগতের এক অত্যাশ্চর্য ঘটনার বর্ণনা করলেন—মেলোলন্থা ভাল্‌গারিস নামক এক ক্ষুদ্র পতঙ্গের যৌনমিলনের বর্ণনা। সাধারণ মিলন হলে সম্মেলনে ঘোষণা করার মত কিছুই ছিলনা, কিন্তু সাধারণ মিলন ছিলনা ওটা। মিলনাবদ্ধ পতঙ্গদ্বয়ের দুজনই ছিল পুরুষ! জীববিজ্ঞানের গবেষণাতে এই প্রথম পরিলক্ষিত সমলিঙ্গের মিলনদৃশ্য। মজার ব্যাপার এই যে, ঠিক একই বছর ইংলিশ প্রণালীর অপর পারে চার্লস ডারঊইন নামক আরেক জী্ববিজ্ঞানী বিবর্তনতত্ব ও প্রাকৃতিক নির্বাচন শিরোনামে এক যুগান্তকারী তত্ব আবিস্কার করে তুমুল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে দিলেন বৈজ্ঞানিকমহলে। আপাতদৃষ্টিতে এ দুই আবিস্কারের মধ্যে বিরোধ থাকা দূরে থাক সম্পর্কও নেই খুব একটা, কিন্তু সমস্যা দাঁড়ালো যখন বারো বছর পর ডারঊইনের দ্বিতীয় তত্ব বের হল, যাকে বিশেষজ্ঞমহলে যৌননির্বাচনের বিশেষ তত্ব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সমস্যা এই যে, এই তত্ব অনুযায়ী সমকামের উদাহরণ কেবল মানুষকূলেই পাওয়া সম্ভব, কারণ এটা প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, সাংস্কৃতিক, সুতরাং মানবপ্রকৃতিরই একটা বিরল অপেরণমাত্র। তাহলে মেলোলন্থাযুগলের মিলনদৃশ্যের ব্যাখ্যা কি?

 

  নব্বুই দশকের গোড়ার দিকে পল ভেসি নামক এক স্নাতকোত্তর ছাত্র মন্ট্রেয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন প্রানীবিদ্যায় পি এইচ ডি করার জন্যে। তাঁর ইচ্ছে ছিল ওরাঙ্গুটানের ওপর কাজ করা। কিন্তু মন্ট্রিয়লে সে সুযোগ ছিল না বলে খানিকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই জাপানী মাকাকদের ( ছোটলেজবিশিষ্ট এক শ্রেনীর বানর) যৌনজীবন নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পশুশালার মাকাকপাড়ায় ঢুকতেই একটা অদ্ভুত দৃশ্য তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করল–বেশ কটি মেয়ে-মাকাক একসাথে বসে নিজেদের মধ্যে চুটিয়ে প্রেমালাপ করছে, আর অদূরে করুণ চোখে তাকিয়ে আছে গুটিকয় পুরুষ মাকাক। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পেরে ভদ্রলোক আরো কদিন পশুশালায় গিয়ে ওদের আচার আচরণ লক্ষ্য করলেন খুব মনোযোগ দিয়ে। দেখলেন সেই একই ব্যাপার। পুরুষ মাকাকদের প্রতি মেয়েগুলুর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, নিজেদের গা ঘষাঘষি করেই তারা সন্তুষ্ট। ভেসিসাহেব বুঝতে পারলেন যে বেশ বড়রকমের একটা প্রাকৃতিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেন তিনি। একদিকে প্রানীবিজ্ঞানের বিশাল প্রাচীরপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গুরুদেব ডারউইন যাঁর অকাট্য তত্বানুসারে প্রানীজগতের যৌনাচারের একমাত্র লক্ষ্য হল প্রজনন, সুতরাং প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই যে-কোন যৌন কর্ম নারী-পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আরেকদিকে তাঁর স্বচক্ষে দেখা এই নগ্ন বাস্তবতা যাকে পশুজগতের সমকামিতা ছাড়া আর কোন ভাষাতেই ব্যাখ্যা করা যায় না। কোন্‌টা সত্য–ডারউইনের তত্ব না চাক্ষুশ প্রমাণ? প্রতিষ্ঠিত সত্য যে ত্রুটিহীন নাও হতে পারে সেটা প্রমাণ করার আশায় তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উত্তেজিত পল ভেসি সিদ্ধান্ত নিলেন যে প্রানীজগতের, বিশেষত জাপানী মাকাকের যৌনাচার নিয়েই তিনি পি এইচ ডি করবেন। কিন্তু বাধ সাধলেন তাঁর অবেক্ষনী অধ্যাপক। তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে?চার্লস ডারউইনকে চ্যালেঞ্জ করা কি চাট্টিখানি কথা? না, তুমি যা দেখেছ তা নিশ্চয়ই কোন নিয়ম নয়, নিয়মের ব্যতিক্রম মাত্র। ব্যতিক্রমের ওপর ভরসা করে কখনো কোন বৈজ্ঞানিক তত্ব দাঁড় করানো যায় না। এই বলে তিনে ভেসিকে ঠাণ্ডা করে দিলেন। কিন্তু পল ভেসি সহজে ঠাণ্ডা হবার পাত্র নন। ডারউইন বলেছেন বলেই তাকে চিরসত্য হিসেবে মেনে নিতে হবে সে-মন্ত্র তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপ করে তিনি এটুকু বুঝতে পারলেন যে তাঁকে অনেক বাধা অতিক্রম করতে হবে। প্রথমত ডারউইন, দ্বিতীয়ত ধর্মবিশ্বাস, তৃতীয়ত সামাজিক সংস্কার। তিনি অবশ্য আগেই জানতেন যে প্রানীবিদ্যার গবেষণাতে ঝুঁকি আছে। এখানে বিজ্ঞানের সঙ্গে সংস্কারের প্রায়ই ঠোকাঠুকি লাগে। বিশেষ করে সমকামের মত একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করতে গেলে নানাদিক থেকে জাত গেল মান গেল রব উঠে আসা খুবই স্বাভাবিক। এসব জেনেও ভেসি দমে গেলেন না।বরং আরো উদ্যম উদ্দীপনা নিয়ে গেলেন প্রানীজগতের সমকামপ্রবণতার গবেষণায়। তাঁর সংকল্পে সহায়তা যোগালো আরেকটি ঘটনা–অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপের পরের দিন মাকাকপাড়ায় গিয়ে তিনি দেখলেন পাঁচজোড়া পশু গভীর সঙ্গমে লিপ্ত–কেলি নয়, পূর্ণ সঙ্গম। এবং পাঁচটি যুগলের একটি ছাড়া বাকি চারটি মেয়ে-মেয়েতে। তারপর কোন সন্দেহের অবকাশ রইল না তাঁর মনে। সৌভাগ্যবশত তাঁর অধ্যাপকও আস্তে আস্তে তাঁর গবেষণার ফলাফলে আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন।

  সমকাম গবেষণা শুরু করার সময় অনভিজ্ঞ ভেসি বা তাঁর অধ্যাপকের জানা ছিল না যে প্রানীজগতের(বিশেষ করে স্তন্যপায়ী প্রানী) সমকামী আচরণ গত একশ বছর ধরেই লক্ষ্য করে আসছিলেন জীববিজ্ঞানীরা। ডলফিন থেকে শুরু করে জিরাফ, শিম্পাঞ্জী, ওয়ালরাস ইত্যাদি বহুবিধ প্রানীতে সমকামিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। ১৮৮৫ খৃষ্টাব্দে ইংলাণ্ড্যের হুটেকার নামক এক ভদ্রলোক দ্য জুওলজিস্ট পত্রিকায় প্রকাশ করলেন দুটি সমলিঙ্গ রাজহংশীর এক অদ্ভুত সহবাসী আচরণের সংবাদ। ১৮৯২ সালে ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আরভিং রস স্থানীয় চিড়িয়াখানার দুটি পুরুষ হস্তীর অকথ্যরকম যৌন আচরণের খবর প্রকাশ করে সাথে সাথে একটি মন্তব্য জুড়ে দিলেন যে পাপপূন্য, শিষ্টাচার ব্যভিচার, এগুলু শুধু মানবসমাজেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রানীজগতেও বিস্তৃত। শিম্পাঞ্জীদের সমলিঙ্গিয় যৌনাচারের ওপর প্রথম প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ করেছিলেন ওল্‌ফ্‌গ্যাং কোলার ১৯২৫তে প্রকাশিত তাঁর দ্য মেন্টালিটি অফ এইপ্‌স্‌ গ্রন্থে। ক্যানাডিয়ান মনোবিজ্ঞানী হেব সাহেবের গবেষণা থেকে ডলফিনের নাম যুক্ত হল সমকামীর দলে, ১৯৪৮ সালে। তাঁর মতে, ডলফিনের সমকাম প্রবণতা এতই লক্ষনীয় যে বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তিনি অন্যান্য প্রানীর তুলনায় ডলফিনকেই মানুষের নিকটতম প্রতিবেশী বলে গণ্য করেন। অর্থাত্‌ সমকামের দৃষ্টান্ত মানবকূলে যে অনুপাতে দেখা যায় ডলফিনসমাজেও তা প্রায় একই অনুপাতে উপস্থিত।

 

 ১৯৭৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত প্রানীবিজ্ঞানী ভ্যালেরিয়াস গাইস্ট একটি বই প্রকাশ করলেন Mountain Sheep and Man in the Northern Wilds যাতে উনি D-Ram      S-Ram দুরকম পুরুষ মেষের সমকামী আচরণের বিস্তারিত বিবরণ দিলেন। তাদের আচরণে যৌনতার নির্ভুল স্বাক্ষর থাকলেও নিজের সামাজিক সংস্কার থেকে কিছুতেই মুক্ত হতে পারছিলেন না বলে খোলাখুলি সমকামিতা না বলে যৌন আগ্রাসন জাতীয় প্রলেপ দিয়ে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করেছিলেন প্রথমে। ঐ সময়ে সমকাম শব্দটাই ছিল একটা দূষিত শব্দ। উচ্চারণ করতেই সাহস পেত না কেউ। গাইস্ট সাহেবের বৈজ্ঞানিক সততা অবশ্য এতই উঁচু মাপের যে দুবছর নিজের বিবেকের সঙ্গে যুদ্ধ করার পর মাছকে শাক দিয়ে ঢাকবার চেষ্টা না করে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন যা সত্য –আগ্রাসন ফাগ্রাসন কিছু না, ওটা আসলেই পুরুষ মেষের সমকামিতা। শেষে ব্রুস বেগোমিল তাঁর ১৯৯৯ তে প্রকাশিত তথ্যবহুল গ্রন্থ  Biological Exuberance এ বিজ্ঞানজগতকে জানিয়ে দিলেন যে বৈজ্ঞানিক বিবেক আর সামাজিক সংস্কারের যে দ্বন্দের কথা উল্লেখ করেছিলেন ভ্যালেরিয়াস গাইস্ট সেই দ্বন্দের অনেক সাথীই ছিল অতীতে। বিজ্ঞান যখন লোকাচারের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় তখন দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অনিবার্য্, কারণ বিজ্ঞানী নিজেও একজন সামাজিক জীব।

 

  বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা কিভাবে সমকাম বিষয়টিকে পাশ কাটাবার চেষ্টা করেছেন যুগে যুগে তার ভূরি ভূরি উদাহরণ ইতিহাসে। পক্ষিবিজ্ঞানী বার্গার ও বিয়ার ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লাফিং গালদের যৌনরীতি সম্বন্ধে লিখলেনঃ যে পাখীর অবস্থান  উপরে, অন্তত দুবার, সে হল পুংজাতীয়, আর যার অবস্থান তার নিচে সে অবশ্যই স্ত্রীপক্ষি। অর্থাত্‌ পক্ষিজগতে সমকামের স্থান নেই, অথচ সত্য হল এই যে লাফিং গালদের শতকরা দশ থেকে পনেরো ভাগই সমকামী। নামকরা প্রানীবিজ্ঞানী এক জায়গায় লিখেছেন অনেক প্রানীবিশারদই আমার কাছে স্বীকার করেছেন যে তাঁদের স্তন্যপায়ী জীবসংক্রান্ত গবেষণাতে সমকামী আচরণের বহু উদাহরণ আছে, কিন্তু তাঁরা সে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক পাছে না পাঠক ধারণা করে নেয় যে তাঁরা নিজেরাই সমকামী, বা তাঁরা গবেষণার ফলাফল সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না।আর যদি কেউ সাহস করে লেখা ছাপিয়ে দেন সেটা এমন সুন্দর করে মলাটে ঢেকে স্থাপন করেন যাতে বাইরে থেকে কেউ বুঝতে না পারে ভেতরে কি আছে। যেমন শিম্পাঞ্জীদের সমকামী স্বভাবকে ডিউয়াল নাম দিয়েছিলেন পুনরাশ্বাস মূলক আচরণ। ডলফিনের সমকামপ্রবণতাকে বলা হয় অভিবাদনী ভঙ্গিমা। আরেক বহুলব্যবহৃত বুলি হল আধিপত্য সংগ্রাম। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কায়দাটি সমকামতাত্বিকদের আয়ত্ত করতে হয়েছে অনেকটা আত্নরক্ষার খাতিরে, কিছুটা নিজেদের সংস্কারের সাথে বোঝাপড়া করার চেষ্টায়।

  সাধারণত বিজ্ঞানের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থাকে একটাই–ধর্মীয় সংস্কার। যেমন ডারউইনের বিবর্তনতত্বকে সৃষ্টিবাদীরা এখনো মেনে নিতে পারেনি। আমেরিকার গুটিকয়েক অঙ্গরাজ্যে বিবর্তনতত্ব এখনো শিখতে দেওয়া হয়না স্কুলকলেজে। পৃথিবী যে সূর্যের চারদিকে ঘোরে, উল্টোটা নয়, সেটা বলতে গিয়ে তো এক বিজ্ঞানীকে জীবনই দিতে হল। কিন্তু জীবজগতের সমকামতত্বের শত্রু দুদিকে–একদিকে ধর্ম, আরেকদিকে ডারউইনের যৌনবিষয়ক বিশেষতত্ব। সত্যিকারের বিজ্ঞানমনস্ক গবেষকরা ধর্মীয় সংস্কারকে কাটিয়ে উঠতে পারেন সাধারণত, কিন্তু প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সংস্কারকে কাটিয়ে ওঠা তত সহজ নয়। এযুগের বিজ্ঞানীদের কাছে ডারউইনবাদ অনেকটা দৈববানীর মতই পবিত্র এবং প্রশ্নাতীত। পুরো একটা সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়ে গেছে সেই বিশ্বাসকে ভিত্তি করে। ডারউইন বলেছেন, সমকাম মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রানীতে নেই, এবং মানুষের মধ্যে যেটুকু আছে সেটুকু নৈতিক এবং চারিত্রিক বিকারগ্রস্তুতা ছাড়া কিছু নয়। সুতরাং ওটাই বেদবাক্য, অকাট্য সত্য। এর বাইরে কোন সত্য হতে পারে না। সেই সংস্কৃতিতে লালিত হওয়া প্রজন্মের পক্ষে বিকল্প কোন তত্ব, যা ধর্মগ্রন্থকেও অমান্য করে, তা গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন।

 

  মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের পি এইচ ডি ছাত্র পল ভেসি ভাল করেই পরিচিত ছিলেন এই সংস্কৃতির সঙ্গে। তিনি জানতেন যে আঁটগাঁট বেঁধে থিসিস লিখতে না পারলে বাইরের পরীক্ষক দূরের কথা নিজের অধ্যাপকও গ্রহণ করবেন না। একে তো তিনি নিমরাজী, তার ওপরে যদি উঁচুমানের গবেষণা না হয় তাহলে তো পত্রপাঠ বিদায় করে দেবেন। তাই এমন যুক্তিতর্ক দিয়ে তাঁর সমকামতত্ব দাঁড় করালেন যাতে কারো কোন দাঁত বসাবার উপায় না থাকে। তাঁর প্রথম প্রকাশিত নিবন্ধ Homosexual Behavior in Primates: A Review of Evidence and Theory’ পড়ে তাঁর অধ্যাপক এত মুগ্ধ হলেন যে এর পর থেকে অত্যন্ত উত্‌সাহের সঙ্গেই ছাত্রকে সর্বপ্রকারের সহায়তা ও সমর্থন দিতে শুরু করলেন। ভেসির গবেষণা থেকে তাঁর মনেও দৃঢ় বিশ্বাস জন্মালো যে প্রানীজগতের সমকামিতা কোনও সাময়িক অপেরণ নয়, বরং একটি দীর্ঘসূত্রীয় নৈসর্গিক ঘটনা–এটাকে অস্বীকার করা মানে বাস্তবকে দেখেও না দেখার ভান করে থাকা। সমকামীদের সংখ্যা বেশী নয়, তুলনামূলকভাবে তারা বিরল, কিন্তু তাদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক হলেও অপ্রাকৃতিক নয়। প্রকৃতির মাঝেই নিহিত আছে সমকামের অংকুর, ভেসির গবেষণা থেকে এ সত্যটাই বেরিয়ে আসে নির্ভুলভাবে। তা থেকে ছাত্র-শিষ্য দুজনের মনেই সন্দেহ জাগতে শুরু করে যে এর মূলে হয়ত কোন গূঢ় জেনেটিক কারণ আছে, যদিও তখন পর্য্যন্ত কোন তথ্যুপ্রমাণ পাওয়া যায়নি সে-সন্দেহকে প্রতিপন্ন করার। তবে ২০০৫ সালের ২৯ শে জানুয়ারীর পত্রিকার খবরে জানা গেল যে শিকাগোর এক জেনোম গবেষক আবিস্কার করেছেন একগুচ্ছ জিন ( একটি নয়, একগুচ্ছ) যা নির্ধারণ করে একটি পুরুষের যৌনপ্রবৃত্তি, অর্থাত্‌ সমকামী কিনা। এটি যদি অন্য গবেষকদের পরীক্ষা দ্বারা সত্য প্রমানিত হয়, এবং আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস যে তা হবে, তাহলে এর যে কতখানি গুরুত্ব তা বলে শেষ করা যাবে না। প্রথমত এতে প্রমাণ হবে যে বাইবেলের পাপের বিধানটি ন্যায়সঙ্গত নয়, কারণ সমকামের স্বভাবটি কেউ নিজে বাছাই করে নেয় না, প্রকৃতিই তার জন্যে বাছাই করে রাখে। দ্বিতীয়ত এতে প্রমাণ হবে যে বাইবেল বা যে-কোন ধর্মগ্রন্থের জ্ঞান সম্পূর্ণ জ্ঞান নয়, সুতরাং তাদের দেবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অযৌক্তিক হবে না। তৃতীয়ত ডারউইনসাহেবের বিবর্তনতত্বে কোন ফাঁকফোকর না থাকলেও তাঁর যৌনাচার বিষয়ক বিশেষ তত্বটি পুনর্বিচারের যোগ্য হয়ে উঠেছে। সবশেষে বলতে হয় যে সমকাম ব্যাপারটি নিয়ে সমাজের যে দেখিনা শুনিনা বলিনার চিরাচরিত সংস্কৃতি সেটাকেও নতুন আলোকে পরীক্ষা করার সময় এসেছে। সমকামী হলেই তাকে শূলে চড়াতে হবে, বা সমাজচ্যুত করতে হবে সেই অমানুষিক আদিম মানসিকতা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

 

  ক্যানাডার বর্তমান বিতর্কটি অবশ্য সমকামের ভালোমন্দ নিয়ে নয়, সমকামীরা আইনসঙ্গতভাবে পরস্পরকে বিয়ে করার অধিকার চায়, সেটা নিয়ে। এর বিরোধীদের যুক্তি হল যে এতে করে নরনারীর বিবাহ নামক সনাতন প্রথাটিই আমূল বদলে যায়। এর বিপক্ষ যুক্তি হল যে এটা ঠিক বিয়ের প্রশ্ন নয়, প্রজননভিত্তিক মিলনের প্রশ্ন নয়, এটা মানবাধিকারের প্রশ্ন, এটা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন। ব্যক্তিগতভাবে আমি দ্বিতীয় যুক্তিটিরই সমর্থক। আমি নিজে হয়ত সাজগোজ করে চার্চে গিয়ে দুটি চুম্বনরত পুরুষ বা নারীর দৃশ্য দেখতে পছন্দ করব না, কিন্তু তাদের যে সে অধিকারটা আছে সেটা মেনে নিতে দ্বিধা করব না বিন্দুমাত্র। একটি মুক্ত উদার সমাজের ধারাই তাই। যেমুহুর্তে সমাজ মেনে নেয় যে ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সমান অধিকারসম্পন্ন সে মুহুর্তে আমাদের প্রত্যেকেরই নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় সেই অধিকার, সেই স্বাধীনতার পূর্ণ মর্যাদা রক্ষা করা। আমার পক্ষে ভোলা সম্ভব নয় যে আমি আমি নিজেও একজন সংখ্যালঘু। এবং সামগ্রিকভাবে ভাবতে গেলে পৃথিবীর সব মানুষই কোন-না-কোনভাবে সংখ্যালঘু। কিন্তু আধুনিক সভ্য সুশীল সমাজ হল যা সব সংখ্যালঘুকেই সমান অধিকার দেয়, এবং তা রক্ষা করার জন্যে প্রানান্ত প্রচেষ্টা চালায়।

 

তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাল ও ২০০৩, ২০শে জুলাইতে অটোয়া সিটিজেনএ প্রকাশিত আলেক্স ব্রেট রচিত নিবন্ধ।

অটোয়া,

৬ই মার্চ, ২০০৫

মুক্তিসন,৩৩