লিখেছেনঃ মোঃ মারুফ হাসান
ধর্মীয় পণ্ডিতরা ধর্মীয় গ্রন্থগুলো থেকে অনেক ধরনের ব্যাখ্যা বা বক্তব্য দিয়ে থাকেন। বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মের ব্যপারে আমি আমার কিছু নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করতে চাইছি।
একজন প্রখ্যাত স্কটিশ লেখক ও খৃস্টীয় চার্চের যাজক রিচার্ড হলোওয়ে তার বই “ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”-এ বাইবেল থেকে একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছেন এভাবে:
“মার্ক আমাদের বলেন, তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগে তিনি হতাশ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করলে?’”
এটি ঘটেছে ধরে নিলে বুঝতে পারা গেলো যে যিশু দেহত্যাগের মত সংকটকালেও ঈশ্বরকে খুঁজে পাননি।
ইব্রাহিম, মুসা, যিশু ও মুহাম্মদ মূলত তাঁদের মস্তিষ্কে এক ধরনের স্বর শুনতে পেতেন যা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একটি মানসিক অবস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
যিশুকে যখন ক্রুশবিদ্ধ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তখন তাঁর ঈশ্বর আসলে তাঁকে সাহায্য করতে আসেননি কারণ যে স্বর তিনি শুনেছিলেন, তা ছিল ভ্রম (delusion) ছাড়া অন্য কিছুই নয়। যিশুর মৃত্যুর পর এবং মুহাম্মদের আগমনের আগ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছর ধরে সেই ঈশ্বর মোটামুটি নতুন আর কোনো কিছুই করেননি। আর খৃস্টধর্মের অনুসারীরা নানাবিধ ঘটনাকে অলৌকিক রূপ দিয়ে উপস্থাপন করেছেন এবং তাঁদের ধর্মগ্রন্থ বা কিতাবগুলোতে স্থান দিয়েছেন।
ওদিকে মুহাম্মদের ব্যাপারেও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। একটি বিখ্যাত হাদিস রয়েছে যেখানে মুহাম্মদ তাঁর কিছু অনুসারীকে খেজুর গাছে লাগানোর পরামর্শ দেন, কিন্তু পরবর্তী বছরে দেখা যায় যে, তাঁর পরামর্শে লাগানো খেজুর গাছগুলোতে ভালো ফলন হয়নি। প্রকৃতি নিজ পথে চলে সেখানে কোঁ ম্যাজিক নেই। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে মুহাম্মদ এর জীবন, মৃত্যু এবং তৎপরবর্তী ঘটনাসমূহ ভীষণভাবে বাস্তব অবস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা আছে, যেখানে একজন মহিলা মুহাম্মদ সম্পর্কে কবিতা লিখেছিল যা আসলে মুহাম্মদের অন্তর্নিহিত স্বত্বাকে প্রকাশ করে দিয়েছিল এবং তা নবীর পছন্দ হয়নি। ফলস্বরূপ মুহাম্মদ রেগে গিয়ে ঐ মহিলাকে হত্যার নির্দেশ দেন।
মুহাম্মদের আরও একজন সঙ্গী ছিলেন যিনি মুহাম্মদ এর নির্দেশিত আয়াতগুলি লিখে রাখতেন। একদিন মুহাম্মদ নিজ থেকে একটি আয়াত সৃষ্টি করে তা যোগ করতে বলেছিলেন এবং তখন ওই সঙ্গী বাস্তব অনুধাবন করে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বলেছিলেন যে ইসলাম আসলে ঠিকঠাক ধর্ম নয়। মক্কা বিজয়ের সময় ওই আয়াতলেখক সঙ্গীকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তবে সে ক্ষমা ও প্রানভিক্ষা চেয়ে আবার ইসলামকে গ্রহণ করেছিল।
সচেতন মানুষ জানে যে মুহাম্মদ কথিত অনেক আয়াত ভুলে গিয়েছিলেন অথবা তিনি দাবি করেছিলেন যে কিছু আয়াত শয়তানের পক্ষ থেকে এসেছে তাঁর মুখে। আসলে, ওই আয়াতগুলি বা কথাগুলি তার অবচেতন মন থেকে এসেছিল। সেইসব মানসিক অবস্থাকে এখন আধুনিক মনোবিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, কিন্তু সে সময়ে কারোই এই বিষয়ে তেমন কোন শিক্ষা অথবা পর্যাপ্ত জ্ঞান ছিল না।
একটি বিখ্যাত হাদিস আছে যা সুফিবাদীরা ব্যবহার করে,
“যে নিজেকে জানল, সে তার রবকে জানল”।
এইটি আসলে বস্তুবাদী (materialistic) মন্তব্য। কারণ ঈশ্বর এবং ঈশ্বরীয় কথাবার্তা মানুষের মনের মাধ্যমে চেতনায় জাগরিত হয়। এই কারণে সুফি ধারণা যেমন “আনাল হক” (আমি ঈশ্বর), এটিকে বরং বাস্তবিক দৃষ্টিকোণে স্বচ্ছ বা আরও প্রাঞ্জল (pragmatic) বলা যায়।
মিথিক্যাল গল্পগুলো বা ধর্মকথা নিয়ে সাহিত্য এবং ধর্মীয় গ্রন্থে অনেক অলৌকিক কাহিনী শোনা যায়, কিন্তু যখন সেই আখ্যানগুলো বাস্তবের সম্মুখীন হয় তখন আসলে খুব সহজেই বুঝতে পারা যায় যে এগুলোর সবটাই ভ্রম (delusion) ব্যাতিত অন্য কিছু নয়।
Md Maruf Hasan
PhD candidate
International Islamic University Malaysia
Leave A Comment